কবি নজরুল কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাগ ও মোবাইল চুরির অভিযোগ,বিপাকে সোহরাওয়ার্দী কলেজের তিন শিক্ষার্থী
কবি নজরুল কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাগ ও মোবাইল চুরির অভিযোগ,বিপাকে সোহরাওয়ার্দী কলেজের তিন শিক্ষার্থী

কবি নজরুল কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাগ ও মোবাইল চুরির অভিযোগ,বিপাকে সোহরাওয়ার্দী কলেজের তিন শিক্ষার্থী
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি | নয়া দুনিয়া
রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে ব্যাগ ও মোবাইল ফোন চুরির শিকার হয়েছেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের তিন শিক্ষার্থী।পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় গেটের পাশে জিনিসপত্র রেখে হলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও পরীক্ষা শেষে সেগুলোর কিছু খুঁজে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা হলেন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের রাফি এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রিফাত ও মেহেরিন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,পরীক্ষায় অংশ নিতে কবি নজরুল সরকারি কলেজে প্রবেশের সময় তাঁদের সঙ্গে ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিল। এ সময় গেটে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ক্যাম্পাসের ভেতরে গেটের পাশে রেখে পরীক্ষার হলে যেতে বলেন। তাঁদের নির্দেশনা মেনেই শিক্ষার্থীরা সেখানে নিজেদের জিনিসপত্র রেখে পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে পরীক্ষা শেষে ফিরে এসে তাঁরা জিনিসপত্র চুরি হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত বলেন, গেটে দায়িত্বে থাকা মামাদের সামনেই ব্যাগ রেখে গিয়েছিলাম। তাঁরাই আমাদের সেখানে ব্যাগ রাখতে বলেছিলেন।পরীক্ষা শেষে এসে দেখি,যেখানে ব্যাগ রেখেছিলাম সেখানে ব্যাগটি নেই।আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও ব্যাগের সন্ধান পাইনি।পরে গেটে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
একই বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরিনও এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে,সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি বলেন,পরীক্ষা শেষে এসে দেখি ব্যাগ যথাস্থানেই আছে,তবে ব্যাগের চেইন খোলা। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ তল্লাশি করে দেখি, ভেতরে থাকা মোবাইল ফোনটি নেই। যে জায়গায় ব্যাগ রেখেছিলাম, সেখানেই ব্যাগটি ছিল;শুধু চেইন খোলা ছিল। এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জানালে তাঁরা কিছু জানেন না বলে জানান।
ঘটনার পর তিন শিক্ষার্থী বিষয়টি জানাতে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের কক্ষে যান। তাঁদের অভিযোগ,অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। তবে ফুটেজে স্পষ্টভাবে কিছু বোঝা যাচ্ছিল না বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী,এ ঘটনায় অধ্যক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না বলে জানান তিনি। এ ছাড়া কলেজের গেটের কাজ চলমান থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁদের পরবর্তী এক বা দুই দিন পর আসতে বলেন।একই সঙ্গে কলেজের মসজিদ থেকেও প্রায়ই জুতা হারানোর ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেন অধ্যক্ষ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গেটে দায়িত্বরত মামারা বলছেন, গেটের ভিতর ব্যাগপত্র রেখে যেতে।
এব্যাপারে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এটা তাদের মামা-ভাগ্নের বিষয়,সেটা আমি জানি না। আমাদের নির্দেশনা হলো,পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো ব্যাগ বা মোবাইল আনা যাবে না। বারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে কাজ চলমান থাকায় নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ নেই,গেটও ভাঙা।পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমরা নেব না বলে আগেই জানানো হয়েছে। এরপরও কীভাবে জিনিসপত্র হারিয়েছে,তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা করছি।
এ ঘটনায় নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি,পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কোথায় ও কীভাবে রাখা হবে,সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কলেজ কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।
প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা এক্সে দ্রুত শেয়ার করতে ক্লিক করুন

