যাত্রাবাড়ীতে মা-মেয়েকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, রনি গ্রেপ্তার।
যাত্রাবাড়ীতে মা-মেয়েকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, রনি গ্রেপ্তার।

যাত্রাবাড়ীতে মা-মেয়েকে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, রনি গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে অর্থ আদায় এবং তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মো. রনি (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার রনি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানার সুতারপাড়া এলাকার মো. আব্দুল গনু মিয়ার ছেলে। তিনি কোনাপাড়া বাঘিচা রোড এলাকায় বসবাস করতেন।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ওই গৃহবধূ দুই মেয়েকে নিয়ে কোনাপাড়া বাঘিচা রোডের একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকেন। স্বামীর সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে রনির সঙ্গে পরিবারের পরিচয় ছিল। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর রনি তাঁদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৫ মে রাতে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে রনি ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন এবং তাঁর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় ভুক্তভোগী বিভিন্ন সময়ে তাঁকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরপরও অর্থ দাবি অব্যাহত রেখে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ওই নারীর ১৬ বছর বয়সী বড় মেয়েকে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। গত ১১ অক্টোবর রাতে কিশোরীকে বাসায় একা পেয়ে যৌন নিপীড়ন এবং তারও আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে রনির বিরুদ্ধে। এসব ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মা ও মেয়েকে চাপে রাখা হচ্ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী নারী যাত্রাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলাটির নম্বর ৭২। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ও ১০ ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১), ৮(২), ৮(৩) ও ৮(৫) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ অভিযুক্ত রনিকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনটি থানায় দায়ের করা এজাহারের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। অভিযোগগুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।
আকলিমা বেগম নয়া দুনিয়া
প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা এক্সে দ্রুত শেয়ার করতে ক্লিক করুন

